আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি (১৯ দশমিক ৯৭ গ্রাম) দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাজুস প্রতি ভরিতে সোনার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছিল, অর্থাৎ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় দফা মূল্য সমন্বয়।

বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সাধারণত তিন ধরনের ক্যারেটের সোনা—১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট—বাজারে পাওয়া যায়, যাদের দাম বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন। ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সোনার অলংকার কিনতে গেলে নির্ধারিত দামের ওপর অতিরিক্ত হিসেবে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়, পাশাপাশি প্রতি ভরিতে মজুরি বাবদ ন্যূনতম ৩ হাজার ৫০০ টাকা গুনতে হয়। ফলে দোকান থেকে অলংকার কেনার সময় প্রকৃত খরচ ঘোষিত দামের চেয়ে বেশ কিছুটা বেশি পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাবাজারের ওঠানামা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা মজুদ বৃদ্ধির প্রবণতা ভূমিকা রাখছে। দেশের বাজারেও প্রায় প্রতিনিয়ত এই ওঠানামার প্রভাব পড়ছে, যার ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে বাজুসকে। যারা বিনিয়োগ বা অলংকার তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদের নিয়মিত হালনাগাদ মূল্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।