গত ৩০ আগস্ট ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন হেভি রকেটে চড়ে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে নাসার ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আট মাস আগেই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হওয়া এই মিশন এখন পৃথিবী থেকে প্রায় দশ লাখ মাইল দূরে সূর্য-পৃথিবীর দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ বিন্দুর (এল-টু) দিকে যাত্রা করছে, যেখানে আগে থেকেই কাজ করছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং "হাবলের জননী" নামে পরিচিত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে নামকরণ করা এই টেলিস্কোপের দৃষ্টিসীমা হাবলের চেয়ে অন্তত একশো গুণ বেশি প্রশস্ত। মিশনের পুরো সময়ে এটি প্রায় একশো কোটি ছায়াপথের আলো পরিমাপ করতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। ডার্ক এনার্জি বা অদৃশ্য শক্তির রহস্য উন্মোচন, নক্ষত্রপুঞ্জের বিস্তার পরিমাপ এবং প্রচলিত মহাজাগতিক তত্ত্বের নির্ভুলতা যাচাই করাই এর মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি নক্ষত্রের আলো আড়াল করার বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি সরাসরি বহির্জাগতিক গ্রহ এবং গ্রহ-গঠনকারী ধূলিমেঘের ছবি তুলতেও সক্ষম হবে।
নাসার সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের নিখুঁত হিসাব এবং কক্ষপথ সংশোধনের সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের কারণে টেলিস্কোপের কর্মক্ষম আয়ু আগের ধারণার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। ১ সেপ্টেম্বর করোনাগ্রাফ যন্ত্র এবং ১৫ সেপ্টেম্বর তিনশো মেগাপিক্সেলের ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্ট সচল করার পর টেলিস্কোপটি এখন মাসব্যাপী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্বে রয়েছে, যা শেষে পুরোদমে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ শুরু হবে।


Comments (0)
Log in to join the discussion.
Be the first to comment.