দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এ বছরের সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মারা গেছেন আরও আটজন, যা চলতি বছরে একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এই নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫৭ জনে।

একই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৭৩৩ জন, যা এ বছরের একদিনে সর্বোচ্চ হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড। এই নিয়ে চলতি বছরে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৩ হাজার ৫৭০ জনে, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে চট্টগ্রামে তিনজন, ঢাকা বিভাগে চারজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের শুরুতে পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল—জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু হয়েছিল মাত্র দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যু হয়নি, মে মাসে একজন এবং জুনে মারা যান ১৩ জন। এরপর থেকেই পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে। জুলাইয়ে মৃত্যু হয় ৩৬ জনের এবং আগস্টে ৪৩ জনের। সেই তুলনায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে—এই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রাণ গেছে ৬০ জনের, যার মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্রেও উদ্বেগজনক প্রবণতা স্পষ্ট। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যদিও একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৮ জন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন ১৩১ জন, যাদের মধ্যে দুজন আইসিইউতে রয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৭৮ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা-পরবর্তী এই সময়ে জমে থাকা পানি ও অনুকূল আবহাওয়ায় এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়াই পরিস্থিতির অবনতির মূল কারণ। জনসাধারণকে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত মশারি ব্যবহার এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।