বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দীর্ঘদিনের একটি সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারের আসনে থাকা ভারতকে পেছনে ফেলে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে সামগ্রিক বাণিজ্যে শীর্ষস্থান এখনও ধরে রেখেছে চীন।

পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ২৪৯ কোটি ডলার থেকে ৩৫৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ভারতের ক্ষেত্রে—ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ কমেছে, আর ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান পিছিয়ে পড়ার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কনীতি সংক্রান্ত আলোচনার অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াশিংটন থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যে এই উল্লেখযোগ্য গতি এনে দিয়েছে। অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা বাস্তবতার প্রভাবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে কিছুটা শ্লথতা দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থানের পেছনে শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতাই নয়, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

এই পরিবর্তন বাংলাদেশের ভূ-অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভৌগোলিক নৈকট্য ও স্থলপথে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে এই পিছিয়ে পড়া আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।