বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের অবস্থানে উঠে এসেছে। চীন এখনও শীর্ষে রয়েছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল, মে ও জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬০৬৫ কোটি টাকা, যা মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯.৪৯ শতাংশ। ভারতের সঙ্গে ছিল ৯.০২ শতাংশ। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য এখনও অনেক এগিয়ে।

বিনিয়োগের নতুন লক্ষ্য:
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) একসঙ্গে কাজ করে আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নিয়েছে। এতে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ:
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। চলতি অর্থবছরের শুরুতে (জুলাই ২০২৬) বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানি বেড়েছে এবং রপ্তানি কিছুটা কমেছে। তৈরি পোশাক খাত এখনও রপ্তানির প্রধান চালিকাশক্তি হলেও বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে—গত অর্থবছরে প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড করেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ অবশ্য শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আগের অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

বিশ্লেষণ:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি বাংলাদেশের বাজার বৈচিত্র্যকরণের জন্য ইতিবাচক। তবে বৈশ্বিক শুল্ক নীতি, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ মোকাবিলায় রপ্তানি পণ্য ও বাজার আরও বৈচিত্র্যময় করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, যাতে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।