গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সোনালী ব্যাংক পিএলসির ঘাঘর শাখায় সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাহকের জমা দেওয়া টাকা সরিয়ে রাখার অভিযোগ ও এর পর সাংবাদিকের তীব্র জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
গতহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে আল-আমিন শেখ নামে এক গ্রাহক হজে যাওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে ঘাঘর বাজার শাখায় যান। তিনি ক্যাশ অফিসার ফোউজিয়া হক (ফৈজিয়া হক)-এর কাছে টাকা বুঝিয়ে দেন।

টাকা গণনার পর কর্মকর্তা দাবি করেন, জমা দেওয়া অর্থের মধ্যে চার হাজার পাঁচশ টাকা কম রয়েছে। গ্রাহক পুরো টাকা জমা দেওয়ার দাবি জানালে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে গ্রাহক শাখার ম্যানেজার ফয়সাল হোসেনের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবি জানান।

ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রাহক পুরো পাঁচ লাখ টাকাই জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যাশ অফিসার গোপনে পাঁচশ টাকার নয়টি নোট অন্যত্র সরিয়ে রেখেছিলেন। গ্রাহক আল-আমিন শেখ আরও দাবি করেন, এর আগেও একই কর্মকর্তা তার দুই হাজার টাকা সরিয়েছিলেন এবং তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কর্মকর্তা ফোউজিয়া হক বলেন, ব্যাংকে অনেক ভিড় থাকায় ভুলবশত এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি গ্রাহকের ৪,৫০০ টাকা ফেরত দিয়েছেন। শাখার ম্যানেজারও বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উল্লেখ করে সিসি ক্যামেরার ভিত্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন।

সাংবাদিকের জিজ্ঞাসাবাদ ও ভাইরাল ভিডিও

এ ঘটনার পর কোটালীপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি এইচ এম মেহেদী হাসনাত নামে এক সাংবাদিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পুলিশি ধাঁচে প্রশ্ন করছেন এবং চাপ সৃষ্টি করছেন। ফোউজিয়া হক কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকেন। এই ভিডিও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিক্রিয়া ও আপডেট
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ এ ঘটনাকে ব্যাংক কর্মকর্তার প্রকাশ্য অপমান ও মানসিক হয়রানি বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে।

সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক তোফায়েল আহমেদসহ অনেকেই এ ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-কে সাংবাদিকতার নৈতিক মানের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন, ব্যাংকের ভেতরে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কাউকে প্রকাশ্যে অপমান করা ঠিক নয়। ক্যাশ কাউন্টারে সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও প্রশ্নবিদ্ধ।

ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক মহলেও এ ধরনের আচরণ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে এবং কেউ কেউ আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।