উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জেলার দুই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৯০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

মহানন্দা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ১২ মিটার নিচ দিয়ে এবং পুনর্ভবা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২ দশমিক ০৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন জানান, পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্রুত বাড়ছে ৩ নদীর পানি, পানিবন্দী ২৯০০ পরিবার

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে ১১ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে তা বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ১ হাজার ৮০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৮ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর আউশ, আমন ধান ও শাকসবজির জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৯০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ১০০ এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ১ হাজার ৮০০ পরিবার রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মোট ২৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা বিতরণ শুরু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।