ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। অঞ্চলটিতে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখতে সক্রিয় হয়েছে বেইজিং।

সোমবার (২ নভেম্বর) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এর মধ্যে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

একই দিনে ইরান ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ঘিরে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা এবং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের খবর পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ২ নভেম্বর রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর প্রকাশ করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপটিকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাত দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে চীন

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে আগামী দিনগুলোতে সাতটি দেশে বিশেষ দূত পাঠানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিনিধিরা ইরান, ওমান, সৌদি আরব, ইথিওপিয়া, জিবুতি, মিসর ও ইরিত্রিয়া সফর করবেন।

চীনের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চীনের উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট চীনের জন্য কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ হয়। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

চীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানি এবং অঞ্চলটিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগের কারণে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আগ্রহী।

কূটনৈতিক সমাধান কতটা সম্ভব?

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোও নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বাস্তবে উত্তেজনা কমবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর।