মধ্যপ্রাচ্যে আগ্নেয়গিরি: খামেনির মৃত্যু ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে উত্তাল ইরান

খামেনির প্রস্থান ও ক্ষমতার শূন্যতা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, গত শনিবারের বিমান হামলায় সুপ্রিম লিডার আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তার সাথে নিহত হয়েছেন চারজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডার। ইরানের দীর্ঘস্থায়ী এই নেতার প্রস্থানে দেশটিতে এক নজিরবিহীন শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগীয় প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য নিয়ে গঠিত একটি 'অস্থায়ী নেতৃত্ব কাউন্সিল' রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য ৮৮ সদস্যের 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস' জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।
সামরিক অভিযান ও পাল্টা আঘাত
মার্কিন পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রথম ১২ ঘণ্টায় প্রায় ৯০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও চুপ করে বসে নেই। তারা ইসরায়েলসহ পার্শ্ববর্তী দেশ কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে মিসাইল হামলা চালিয়েছে।
ওমান সাগর: মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের একটি জামারান-ক্লাস করভেট যুদ্ধজাহাজ তাদের হামলায় ওমান সাগরে ডুবে গেছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতা: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দুবাই বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও মানবিক সংকট
যুদ্ধের ভয়াবহতার পাশাপাশি ইরান এক চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি।
মুদ্রাস্ফীতি: ইরানি রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন ঘটেছে। বর্তমানে ১ ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ১১ লাখ ছাড়িয়েছে।
খাদ্য সংকট: দেশটির প্রায় ৫৭% মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এবং মাংসের মতো সাধারণ খাবার এখন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
বাজেট সংকোচন: ২০২৬ সালের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে সরকারি ব্যয় প্রায় ৩৫% কমানো হয়েছে, যা জনজীবনে স্থবিরতা নামিয়ে আনতে পারে।
বিশ্বের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলাকে আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাশিয়া এই সামরিক অভিযানকে "সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর বিনা উসকানিতে আগ্রাসন" বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, এই অপারেশন আরও কয়েক দিন বা সপ্তাহ চলতে পারে।
আগামী দিনের শঙ্কা
ইরানে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে, যাতে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমানো যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি চাপের মুখে ইরান যদি তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্তে না আসে, তবে এই যুদ্ধ পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
Please login to post a comment.





















Comments
Loading comments...