পবিত্র ঈদ-উল-আজহার দীর্ঘ ৭ দিনের ছুটি শেষে আজ থেকে আবার সচল হয়েছে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ আদালত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সোমবার সকাল থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে সচিবালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দফতর।

এ বছর ঈদের নির্ধারিত ছুটির সাথে সাপ্তাহিক ছুটি ও শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে টানা ৭ দিনের একটি বড় অবকাশ পান চাকরিজীবীরা। দীর্ঘ এই ছুটি শেষে চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা।

ঈদ পুনর্মিলনীর আমেজ

আজ ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে অফিসগুলোতে কাজের চেয়ে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়ের আমেজই ছিল বেশি। সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে এসেই একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেক দফতরেই মিষ্টি মুখ করানোর রেওয়াজ দেখা গেছে। ফলে প্রথম দিনে চিরচেনা ব্যস্ততার চেয়ে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশই বিরাজ করছে কর্মক্ষেত্রগুলোতে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের ভিড়:

অফিস-আদালতের পাশাপাশি আজ সকাল থেকেই খুলেছে সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সকাল থেকেই ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে স্থবির হয়ে থাকা আর্থিক লেনদেন সচল করতে সকাল থেকেই কাউন্টারগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের টাকা জমা ও উত্তোলনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

আদালতপাড়ায় কর্মব্যস্ততা:

সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগসহ দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে আজ সকাল থেকেই বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের আনাগোনা বেড়েছে। ছুটির কারণে আটকে থাকা মামলাগুলোর নিয়মিত শুনানি ও ফাইলিংয়ের কাজ শুরু হওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণ আবার চেনা ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে।

এক নজরে আজকের চিত্র-
হাজিরা: প্রথম দিন হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল প্রায় ৮০-৮৫%। তবে ঢাকার বাইরে থেকে ফেরা অনেকের কারণে কিছুটা বিলম্ব দেখা গেছে।

দুপুরের পর থেকে সচিবালয় ও মতিঝিলসহ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে গাড়ির চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবারের মধ্যে কর্মস্থলগুলো পুরোপুরি পূর্ণ শক্তিতে ফিরে আসবে এবং ঈদের আমেজ কাটিয়ে সবাই পুরোদমে দাপ্তরিক কাজে মনোনিবেশ করবেন।