মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। ঢাকা মনে করে, কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ওপর সামরিক আগ্রাসন বা বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের চরম পরিপন্থী এবং এটি বিশ্বশান্তির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বিবৃতিতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, শক্তি প্রয়োগ বা যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলাই এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিকদের জীবনহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বাংলাদেশ তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে এবং অবিলম্বে এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর মধ্যস্থতা কামনা করেছে।

বিবৃতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত লাখ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার চরম উদ্বিগ্ন। তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দূতাবাসগুলোকে সার্বক্ষণিক সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব বিভিন্ন মিশনের প্রধানদের সাথে পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে যেসকল বাংলাদেশি আকাশপথ বন্ধ হওয়ার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সিভিল এভিয়েশন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকার প্রধানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রতিটি মিশন প্রবাসীদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন চালু রাখে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কেবল ওই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। বাংলাদেশ আশা করে, বৈশ্বিক শক্তিগুলো দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে এবং রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের অবসান ঘটাবে।