নাটকীয় এক মার্কিন সামরিক অভিযানে কারাকাস থেকে আটক হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে ভেনেজুয়েলার অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। গত শনিবার পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমেই তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির ওপর ওয়াশিংটনের আধিপত্য বিস্তারের পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ৬৩ বছর বয়সী এই নেতাকে হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যানে করে নিউইয়র্কের আদালতে নিয়ে আসা হয়। মাদুরোর সঙ্গে তার ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত। গত শনিবার মার্কিন কমান্ডোরা ফাইটার জেট এবং নৌবাহিনীর সহায়তায় হেলিকপ্টার যোগে কারাকাসে হামলা চালিয়ে এই দম্পতিকে আটক করে। আটকের পর তাদের একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে বিমানে করে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, এই কারাগারটি বন্দীদের ওপর অমানবিক আচরণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য কুখ্যাত। এর আগে ঘাসলেইন ম্যাক্সওয়েল, হিপ-হপ মোগল কম্বস এবং হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের মতো ব্যক্তিরা এখানে বন্দি ছিলেন। বর্তমানে ইউনাইটেড হেলথ গ্রুপের নির্বাহী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লুইজি মাঙ্গিওনেও এই কারাগারে বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে, গত রোববার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের "তত্ত্বাবধানে" থাকবে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আলোচনা এখনই করা "অপরিণত" সিদ্ধান্ত হবে।

আদালতে মাদুরোর আইনজীবীরা এই গ্রেফতারের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের যুক্তি, একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাদুরো আইনি দায়মুক্তি পাওয়ার যোগ্য। যদিও ১৯৯০ সালে পানামার শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা একই যুক্তি দিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকার করে না, বিশেষ করে ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে।

ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানালেও, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সুর নরম করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে "শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্ক" ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার প্রকাশিত ২৫ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্রে মাদুরো ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক কার্টেলের সাথে যোগসাজশে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর এবং মাদক ব্যবসায় বাধা সৃষ্টিকারীদের হত্যার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। ২০০৭ সালে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে বড় অংকের ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে মাদক চোরাকারবারিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

আটকের আগে মাদুরো দাবি করেছিলেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের প্রতি লোভের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তার দেশের ওপর বৈরিতা প্রদর্শন করছে।