ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার রাজনীতিতে বড় ধরনের নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। ঢাকা-৯ আসনের বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

**তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিলের নেপথ্যে**
শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাসনিম জারার জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের তালিকায় অসংগতি পাওয়া গেছে। যাচাইকৃত ১০ জন ভোটারের মধ্যে ২ জন ভোটার ওই আসনের তালিকায় নেই বলে প্রমাণ পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তাসনিম জারা বলেন, "দুজন সমর্থকের একজন খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা হলেও তার এলাকাটি ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত। অন্যজন ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করেও ডাটাবেজে আপডেট না হওয়ায় ভোটার হিসেবে শরীয়তপুরে রয়ে গেছেন। ভোটারের এই তথ্য জানার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন রাখেনি।" তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

**আনিসুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল ও বিক্ষোভ**
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তার মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও হট্টগোলের খবর পাওয়া গেছে। তীব্র প্রতিবাদের মুখেই তার প্রার্থিতা বাতিল হয় বলে জানা গেছে।


ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম এবং ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে।


ইসির তথ্য অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারির মধ্যে সব মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হবে। যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তারা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বহুল প্রতীক্ষিত গণভোট।