সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেল বা পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে পাওয়ার পরেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

### প্রতিবেদনের অপেক্ষায় সরকার

অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। তিনি বলেন, "২১ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিশন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে লিখিত এবং সরাসরি মতামত গ্রহণ করছেন। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা শীঘ্রই তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন।"

### প্রধান আলোচনার বিষয়সমূহ:

* **সুপারিশের ভিত্তি:** কমিশনের সদস্যরা প্রতিরক্ষা এবং বিচার বিভাগের জন্য আলাদা উপকমিটির মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাগুলোও খতিয়ে দেখছেন।
* **গভর্নরের মন্তব্য প্রসঙ্গে:** সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নির্বাচনের আগে নতুন স্কেল সম্ভব নয় বলে যে মন্তব্য করেছেন, সে প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটি সম্পূর্ণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ব্যাংক খাতের বাইরে এ বিষয়ে মন্তব্যের সুযোগ কম।
* **প্রেক্ষাপট:** গত বছরের জুলাই মাসে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছর (২০১৫ সাল) পর নতুন স্কেলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে।

### কেন এই নতুন পে স্কেল?

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকুরিজীবী রয়েছেন। গত দুই বছর ধরে অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের প্রকৃত আয় কমেছে। এই আর্থিক চাপ থেকে স্বস্তি দিতেই নতুন বেতন কাঠামোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।